Tuesday, January 25, 2022
Homeখেলাধুলাবিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম ও কমিশন

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম ও কমিশন

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম, বাংলাদেশে দিন দিন মেবাইল ব্যাংকিং এর চাহিদা বাড়ছেই বাড়ছে। বিশেষ করে বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর চাহিদা এখন তুঙ্গে/শীর্ষস্থানে। মোটামুটি আমাদের সবারই একটি বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট রয়েছে। তবে, আমরা বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট ব্যবহার করি শুধু মাত্র পার্সোনাল লেনদেন করার জন্য। এর মধ্যে আমাদের কোন কমিশন নেই।

আপনি যদি বিকাশ থেকে কমিশন পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলতে হবে।বিকাশ এজেন্ট পার্সোনাল একাউন্ট খোলার নিয়ম আমরা অনেকেই জানি। যারা জানেন তারা জানতে পড়ুন;- বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২১ A টু Z খুঁটিনাটি  কিন্তু আমরা অনেকেই বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তাদের জন্য আজকের আর্টিকেল;- বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম।

বিকাশ এজেন্ট হতে কত টাকা লাগে?

অনেকেই জানতে চান এবং অনুসন্ধান করে থাকেন যে, বিকাশ এজেন্ট হতে কত টাকা লাগে?তাদেরকে বলবো যে, বিকাশ এজেন্ট হতে বিকাশকে কোন ফি দিতে হবে। এবং বিকাশ অফিসে কোন টাকা জমা/জামানত দিতে হবে না।

তবে, প্রাথমিক অবস্থায় বিকাশ এজেন্ট নাম্বারে ১০০,০০০৳ লোড করতে হবে। এবং এই এক লক্ষ টাকা আপনি পরবর্তী যে কোন সময়ে পার্সোনাল নাম্বারে পাঠাতে পারবেন। এবং ৯৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পাঠাতে পারবেন। তবে, সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা সব সময় আপনার একাউন্টে থাকতে হবে।

এছাড়াও বিকাশ পার্সোনাল গ্রাহকরা সর্বদাই আপনার একাউন্টে ক্যাশ আউট করবে। তার জন্য আপনার হাতে যথেষ্ট নগদ টাকা থাকতে হবে।যাতে করে তারা ক্যাশ আউট করলল তাদের বিল দিতে পারেন। এই ক্যাশ আউটের টাকা গুলল আবার আপনি অন্য একাউন্টে পাঠাতে পারবেন।

এজেন্ট একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে?

প্রত্যেকটার কোম্পানির কিছু চাহিদা থাকে। তেমনি ভাবে বিকাশের এজেন্ট হতে হলেও বিকাশের কিছু চাহিদা পূরণ করতে হবে। বিকাশের চাহিদা হলো আপনার দোকানটি ভালো পজিসনে হওয়া। যথা;- কাঁচা বাজার, রেল/বাস/সিএনজি স্টেশন। মোট কথা যেখানে হিউজ পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়। এছাড়াও কিছু জরুরী কাগজপত্র লাগবে। যথাক্রমে;-

  • আপনাড ব্যবসায়ীকে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স এর ৪ টি ফটোকপি
  • জাতীয় পরিচয়পত্র ৪ টি রঙিন ফটোকপি
  • টিন সার্টিফিকেট এর ৪ টি ফটোকপি
  • এজেন্ট প্রত্যাশীর ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
  • এছাড়াও একটি পোস্টপেইড সিম

কোথায় বিকাশ দোকান দেওয়া যায়?

বিকাশ দোকান দেওয়া জন্য ভালো একটি স্পেস থাকা দরকার। কেননা বিকাশে যত বেশি লেনাদেনা হবে ততবেশি লাভ। তাই বিকাশ দোকান হতে হবে;- বাস স্টেশন, রেল স্টেশন, সিএনজি স্টেশন, শপিং মল, মার্কেট ইত্যাদির সামনে।

ব্যাবসায়ীক ট্রেড লাইসেন্স;- ব্যাবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স করতে সিটি করপোরেশনে/উপজেলায়/বোর্ড অফিসে যোগাযোগ করুন।

টিন সার্টিফিকেট;- একাউন্ট খোলার সময় টিন সার্টিফিকেট অর্থাৎ Taxpayer’s Identification Number এর ৪টি ফটোকপি আপনাকে জমা দিতে হবে।

TIN certificate অনলাইনে নিতে  এই সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করতেপারেন । অথবা যেকোনো কম্পিউটার সার্ভিস দোকানে গিয়েও এটি নিতে পারেন।

বিকাশ এজেন্ট সিম;- বিকাশ এজেন্ট এর জন্য আলাদা কোন সিম প্রয়োজন নেই। আপনার পোস্টপেইড সিম থেকেও বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুুুলতে পারেন।

বিকাশ এজেন্ট হওয়ার শর্ত

  • বিকাশ এজেন্ট থেকে প্রত্যেক মাসে কমপক্ষে ৫ টি পার্সোনাল একাউন্ট খুলে দিতে হবে।
  • প্রথমবার একাউন্ট খোলার সময় এক লক্ষ টাকা লোড করতে হবে।
  • এজেন্ট একাউন্টের ব্যালেন্স ৭,০০০৳ থেকে কমতে পারবে না।
  • বিকাশ প্রতিনিধির প্রত্যেকদিন আপনার দোকান ভিজিট করবে। তাই প্রতিদিন কম পক্ষে তাদের সাথে ২,০০০৳ লেনদেন করতে হবে।

কিভাবে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলবেন?

সাধারণত বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট দুইভাবে খোলা যায়। অর্থাৎ;- ১/ বিকাশ গ্রাহক সেবা কেন্দ্র থেকে। ২/ বিকাশ ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনের মাধ্যমে।

বিকাশ অফিস থেকে এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

অনলাইনে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলা থেকে সরাসরি অফিসে গিয়ে একাউন্ট খোলা অনেকেই বেশি নিরাপদ মনে করে থাকেন। বিকাশ অফিস থেকে এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য নিকটবর্তী গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যেতে হবে। আপনার নিকটবর্তী গ্রাহক সেবা কেন্দ্র খুঁজতে বিস্তারিত পড়তে পারেন;- বিকাশ হেল্পলাইন , কাস্টমার কেয়ার, অভিযোগ নাম্বার ও লাইভ চ্যাট এবং গ্রাহক সেবা কেন্দ্র

আপনার নিকটবর্তী গ্রাহক সেবা কেন্দ্র খুঁজে পেলে জরুরী কাগজপত্র তথা;- ট্রেড লাইসেন্স, এনআইডি, টিন সার্টিফিকেট, এজেন্ট প্রত্যাশির ছবি ও পোস্টপেইড সিম নিয়ে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে চলে যান।বিকাশ গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে এগুলো জমা দিলে বিকাশ অফিস থেকে বিকাশ প্রতিনিধিরা আপনার দোকান ভিজিট করবে। এবং ভালো মনে করলে আপনার বিকাশ এজেন্ট অনুমোদন দিবে। বিকাশ গ্রাহক সেবা কেন্দ্র সম্পর্কে আরো জানতে কিংবা বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনার বাজারের অন্য দোকানে আসা যাওয়া বিকাশ প্রতিনিধিদের সাথেও কথা বলে দেখতে পারেন।

বিকাশ ওয়েবসাইট থেকে এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ ওয়েবসাইট থেকে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলতে ঝামেলা কম। তবে, এই প্রক্রিয়াটি একটু ধীর গতিতে সম্পূর্ণ হয়। বিকাশ ওয়েবসাইট থেকে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলতে চাইলে প্রথমে ভিজিট করুন;- https://www.bkash.com/bn/i-want-register/send-registration-request লিংকটি ভিজিট করলে নিচের ফটোর মত একটি ফরম দেখবেন।

ফরমটি যথাক্রমে ভালো করে পূরণ করুন। যথা;-

  • প্রথমে যিনি এজেন্ট হতে চান তার নাম দিন।
  • তারপর তার ফটো আইডি নাম্বার যথা;- জাতীয় পরিচয়পত্র, স্মার্ট আইডি, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সের নাম্বার দিন।
  • এরপর আপনার দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নাম্বার দিন।
  • তারপর আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য কন্টাক্ট নাম্বার দিন।
  • তারপর ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের নাম দিন।
  • তারপর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ঠিকানা দিন।
  • তারপর ইমেইল ঠিকানা দিন।
  • এবার ক্যাপশা পূরণ করে সাবমিট/জমা দিন।

এভাবে সফল ভাবে অনলাইনে আবেদন করার পর বিকাশ প্রতিনিধিরা আপনার দোকান ভিজিট করবে। আর তাদের মনমতো হলে কাগজপত্র যাচাই করে এজেন্ট একাউন্টের অনুমোদন দিবে।

বিকাশ এজেন্ট কমিশন

বিকাশ এজেন্ট একাউন্টে৮ সফলভাবে অনুমোদন পেলে আপনিও হয়ে যাবেন বিকাশের একজন ছোটখাটো প্রতিনিধি।তাই বিকাশ আপনাকে তাদের গ্রাহকদের জন্য সাথে টাকা লেনদেন এর জন্য কমিশন দিবে।

তবে, এই কমিশন কয়েকটি বিষয় এর উপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ আপনি যদি;- ইউএসডি কোড এর সাহায্যে টাকা ক্যাশ আউট/ক্যাশইন করেন তাহলে প্রতি হাজারে ৪ টাকা ১০ পয়সা কমিশন পাবেন। আর যদি অ্যাপ এর মাধ্যমে ক্যাশ আউট/ক্যাশইন করেন তাহলে প্রতি হাজারে ৪ টাকা ৩০ পয়সা কমিশন পাবেন। আর যদি বিকাশ অ্যাপ এর মাধ্যমে ৯০% বা তার উর্ধ্বে লেনদেন করে থাকেন তাহলে প্রতি হাজারে ০.২০ পয়সা কমিশন পাবেন।

USSD পদ্ধতিতে কমিশন

USSD কোড দিয়ে বিকাশে লেনাদেনা করলে প্রতি হাজারে ৪ টাকা ১০ পয়সা কমিশন পাবেন। সহজভাবে বলতে গেলে ১০০% এর মাধ্যে ০.৪১০% পাবে। এর অর্থ হলো;- এক লক্ষ টাকা ক্যাশআউট বা ক্যাশইন করলে ৪১০৳ পাবেন।

এজেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে কমিশন

বিকাশ ইউএসএসডি কোড ব্যবহার না করে বিকাশ এজেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে লেনাদেনা করলে একটু বাড়তি কমিশন রয়েছে। বিকাশ অ্যাপ দিয়ে লেনাদেনা করলে প্রতি হাজারে ৪ টাকা ৩০ পয়সা কমিশন পাবেন। আরো সহজভাবে বলতে গেলে ১০০% এর মাধ্যে ০.৪৩০% পাবেন। এর অর্থ হলো;- এক লক্ষ টাকা ক্যাশআউট বা ক্যাশইন করলে ৪৩০৳ পাবেন।

এছাড়াও বিকাশ অ্যাপ ৯০% বা তার বেশি লেনাদেনা করলে প্রতি হাজার ০.২০ পয়সা আরো বাড়তি পাচ্ছেন।

কারেন্ট বিল কমিশন

বিকাশে আপনি যদি আপনার রেফারে কারেন্ট বিল পে করতে পারেন তাহলে প্রতি বিলে ২০ টাকা কমিশন পাবেন।

বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ

বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ এর অসংখ্য সুবিধা রয়েছে।বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ থেকে সুবিধা পেতে চাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।

বিকাশ এজেন্ট অ্যাপ ডাউনলোড

যেহুতো আপনি বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলেছেন সেহুতো আপনাকে বিকাশ চার্জ ফি সম্পর্কে জানতে হবে। বিকাশ সার্জ ফি সম্পর্কে জানতে পড়ুন;- বিকাশ ক্যাশ আউট সার্জ (২০২১) ও অন্যান্য সার্জ সমূহ বিস্তারিত

আর আপনি যদি শুধু মাত্র ব্যাবসায়ীক প্রয়োজনে বিকাশ একাউন্ট খুলতে চান (কমিশনের জন্য নয়) অর্থাৎ শুধু মাত্র আপনার পেমেন্ট নেওয়ার জন্য তারা বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খুলতে পারেন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন;- বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম (২০২১)

বিকাশ এজেন্ট একাউন্টের সুবিধা

বিকাশ এজেন্ট একাউন্টে অনেক সুবিধা রয়েছে। তারমধ্যে অন্যতম সুবিধা হলো;- আপনি দৈনিক যদি ১০০,০০০ টাকা লেনদেন করেন তাহলে দৈনিক লাভ কমপক্ষে ৪১০৳ আর যদি দৈনিক ২৫০,০০০ লক্ষ টাকা লেনদেন করতে পারেন তাহলে দৈনিক ১,০০০ টাকা লাভ। সে হিসাবে মাসে ৩০,০০০৳ অনায়াসেই লাভ করতে পারেন।

আপনি যদি আপনার বিকাশ একাউন্টে পিন ভুলে যান কিংবা পিন লক হয়ে যায় অথবা পিন পরিবর্তন করতে চান তাহলে পড়তে পারেন;- বিকাশ পিন রিসেট করার নিয়ম! বিকাশ পিন লক হলে করণীয়     আপনার যদি বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার কোন প্রয়োজন হয় তাহলে পড়তে পারেন;- বিকাশ একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম ।। A টু Z বিস্তারিত জেনে নিন।।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments

error: Content is protected !!